চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) স্পেনে বেকারত্ব এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। তবে দেশটির কর্মক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনো শক্তিশালী রয়ে গেছে। ওয়ার্কপ্লেস এক্সপেরিয়েন্স ও ডিজিটাল পরিষেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রিকোহ ইউরোপের জন্য অপিনিয়ন ম্যাটার্স পরিচালিত এক নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। যেখানে বলা হচ্ছে, ইউরোপে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে স্পেন রয়েছে শীর্ষে। এ জরিপে ইউরোপজুড়ে ১ হাজার ৮০০ জন নিয়োগদাতা ও সাত হাজার কর্মী অংশ নেন। খবর ইউরো নিউজ।
সাধারণত একজন কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যত বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ কাজ করতে পারে, তার উৎপাদনশীলতা তত বেশি। ইউরোপে এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইতালি। এর পরের নামগুলো হলো নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড।
জরিপে স্পেনের ৯২ শতাংশ কর্মী নিজ দেশের উচ্চ উৎপাদনশীলতার কথা জানিয়েছেন। এর বিপরীতে মত দিয়েছেন মাত্র ৪ শতাংশ। এর তুলনায় যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের কর্মীদের মধ্যে ৯ শতাংশ নিজেদের কম উৎপাদনশীল মনে করেন। এদিকে ফ্রান্সের ২২ এবং জার্মানির ২৭ শতাংশ ব্যবসায়ী নেতার মতে, কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতার পথে প্রধান বাধাগুলোর একটি হচ্ছে পুরনো প্রযুক্তি।
জরিপে অংশ নেয়া ইউরোপের কর্মীদের ৪০ শতাংশ মনে করেন, ডিজিটাল সুবিধা বাড়লে উন্নত ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার তাদের কাজের গতিসহ সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা উন্নত করতে পারে। ৩৭ শতাংশ কর্মী যোগাযোগ ও সমন্বয় টুলসের গুরুত্বের কথা বলেন, আর ৩৬ শতাংশ চান ভালো অটোমেশন সফটওয়্যার।
রিকোহ ইউরোপের চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড কমার্শিয়াল অফিসার ক্যারোলাইন ব্রাইট বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রযুক্তিগত ব্যবধান দূর করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপজুড়ে উৎপাদনশীলতার এ ফারাক ব্যবসায়িক নেতাদের জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।’
তিনি আরো বলেন, ‘অফিস সংস্কৃতি পুনরায় তৈরি হচ্ছে। তাই কর্মীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেয়া এখন আরো জরুরি হয়ে উঠেছে। ভালো খবর হলো সমাধান হাতের নাগালেই আছে। যারা এখনই কর্মক্ষেত্রকে আধুনিকায়নের পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তারাই প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে এবং কর্মীদের সক্ষম করে তুলতে পারবেন।’
এ ইতিবাচক দিকের মাঝেও স্পেনের বেকারত্বের হার মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের ১০ দশমিক ৬ শতাংশের তুলনায় অনেকটাই বেশি। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল বেকারত্বের হার হবে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থাৎ বাস্তবতা প্রত্যাশিত হারের তুলনায় বেশি।
স্পেনের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা (আইএনই) জানিয়েছে, প্রথম প্রান্তিকে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭০০ জন বেড়ে ২৮ লাখে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে চাকরির সংখ্যা ৯২ হাজার ৫০০ কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখে। একই সময়ে কর্মক্ষম জনসংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ২০০ জন বেড়ে ২ কোটি ৪৬ লাখে পৌঁছেছে।
বছরের প্রথম তিন মাসে বেকার নারী ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ জন ও বেকার পুরুষ বেড়েছে ৭৭ হাজার ২০০ জন। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সেবা খাতে। এখানে কাজ হারিয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৯০০ জন। নির্মাণ খাতে কমেছে ১৩ হাজার ৭০০টি চাকরি। শিল্প খাতে ২১ হাজার ১০০ এবং কৃষি খাতে কমেছে ৪ হাজার ৫০০ চাকরি।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের অন্যতম কারণ দেশের অর্থনীতি এখনো অত্যন্ত চক্রভিত্তিক খাতগুলোর ওপর নির্ভরশীল, যেমন আতিথেয়তা ও পর্যটন। পাশাপাশি চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সতর্কতা বজায় রেখেছে অনেক প্রতিষ্ঠান।